পার্বত্য দুই জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সংঘর্ষ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আজ শুক্রবার বিকেলে একটি বিবরণ দিয়েছে। বিবরণে চলমান উত্তেজনা তিন পার্বত্য জেলায় বড় ধরনের দাঙ্গায় পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়, যাদের চিকিৎসার জন্য দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে ফেলে। এই ঘটনার ফলে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। 

দ্রুততার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে একটি জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালা ও পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর যৌথ টহলের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

১৯ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি জোনের একটি টহল দল রাত সাড়ে ১০টায় এক মুমূর্ষু রোগীকে স্থানান্তরের সময় খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর এলাকায় পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা ইউপিডিএফ (মূল) নেতৃত্বে বাধা দেয়। পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিলে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর গুলি চালায়, এবং আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি করে। গোলাগুলির ফলে তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।